তারপর একদিন হোয়াট্সঅ্যাপের ছবি পরিবর্তন করলাম... আগের যে ছবিটা ছিল সেটা বহুদিন আগেকার, প্রায় তিনছর আগে দার্জিলিং গিয়েছিলাম, ম্যালে দাঁড়িয়ে সেই চিরাচরিত পোজ... ছবিতে আমাকে সুন্দর না লাগলেও, পাহাড়ে আমাকে সুন্দর লাগে... আমার মনে হয় পাহাড়ের লোকের মন পাহাড়ের মতই উঁচু... ছোঁয়া যায়না...
যে নতুন ছবিটা লাগিয়েছিলাম সেটা বললে হাস্যকর শোনাবে। বিছানার উপরে জলের বোতল। খুব সাংঘাতিক ব্যাপার। বন্ধুবান্ধব জিজ্ঞেস করল হঠাত নিজের ছবির পরিবর্তে জলের বোতল কেন? ততক্ষণাত কোনও উত্তর মাথাতে আসে নি... মুহূর্তের মধ্যে ভেবে নিয়ে বললাম 'ক্লাস থ্রির বিজ্ঞান বইতে লেখা ছিল জলের অপর নাম জীবন, তাই জলের বোতলের ছবি লাগিয়েছি।'
অনেকে ভেবেছে ছেলেটা বোধহয় পাগল হয়ে গিয়েছে, অবিলম্বে মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। হয়তো সত্যিই... আমরা অনেকসময় পাগল হয়ে যাই, প্রতিবার... যখনই কাউকে খুব কাছের মনে হয়... মনে হয় এই হাতের উপর 'সে' হাত রাখলে নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করতে পারি....
ব্যাপারটা সত্যি... বোতলটা সেসময় আমার জীবন ছিল।
সেদিন প্রচণ্ড গরমে আমার প্রায় হাঁস-ফাঁস অবস্থা। বাতাসে আপেক্ষিক আদ্রতা অত্যন্ত বেশি ছিল... আমরা একসঙ্গে ফিরছিলাম। অনেক কথা... বান্ধবীর বিয়ে, মায়ের শরীর খারাপ, গরমে কী খাওয়া উচিত, কোল্ড ড্রিংক্স কেন পান করা উচিত নয়... আর শেষের পাঁচ মিনিট 'মোটিভেশন ক্লাস'।
'ভাল করে পড়', 'একদম পড়ছ না' 'কদ্দিন আর এভাবে থাকবে' 'বাবা-মা কে তো দেখতে হবে' 'বাড়িতে ভাই আছে'........
এত কথা যাতে সঠিকভাবে গিলতে পারি সেই কারণে আমার প্রচন্ড জল তৃষ্ণা পেয়ে গেল...
আমি জিজ্ঞেস করলাম...
- জল আছে?
- না...
তারপর হঠাত হন্ত-দন্ত হয়ে রাস্তা পার হয়ে গেল... আমি কোনও কারণ খুঁজে পেলাম না... বেশ কয়েকটা দোকান ঘোরার পর জলের বোতল নিয়ে হাল্কা স্মাইল করে আমার পাশে এসে দাঁড়াল...
- চোখমুখটা ধুঁয়ে একটু জল খেয়ে নাও....
- আচ্ছা! এতটা হাইপার হওয়ার কী কোনও প্রয়োজন ছিল?
- হুমম.. আগের দিন তুমি চকলেট চেয়েছিলে, দিতে পারিনি... আমার শুধু একটা কথায় মনে হচ্ছিল সেদিন... এতদিন পর তুমি আমার কাছে কিছু চাইলে, আর আমি দিতে পারলাম না! খুব খারাপ লাগছিল সেদিন।
পঁচিশ বছর বয়সের প্রথম প্রেমে এইভাবেই আমি পাগল হয়েছিলাম....
0 Comments
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন