বছর দুয়েক আগে একটি মেয়েকে ফেসবুকে মেসেজ পাঠিয়েছিলাম।
- হ্যালো! ইংলিশ 'হনার্স', আমি কী তোমায় অ্যাড করতে পারি?
আমার মেসেজে অবশ্যই শ্লেষ অথবা ব্যঙ্গ ছিল। হয়তো আমি তখন ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি... বা বুঝেও আত্মগৌরবের সঙ্গে সেইসমস্ত ভুল গুলো করে গিয়েছি....
সেই অর্থে অপরিচিত খুব কম লোকজনকেই এখন ফেসবুকে অ্যাড করি। যাদের অ্যাড অথবা অ্যাক্সেপ্ট করি...বেশিরভাগ জনের সঙ্গেই কথা হয়না, কারণ পরিচিত সকলেই হোয়াট্সঅ্যাপে আছে..... ওখানে মেসেজ আদানপ্রদান অপেক্ষাকৃত সহজ তৎক্ষণাত, এবং প্রকৃত সময়ে ঘটে।
আজ একটি মেয়েকে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাই। অবশ্যই আমার থেকে বয়সে ছোট...। মোটে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। সেরকম আহামরি কিছু লিখিনি, গতানুগতিক 'হ্যাপি বার্থডে টু ইউ'।
সন্ধেবেলার দিকে তার একটা খুব সুন্দর রিপ্লাই পেয়েছিলাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা ছাড়াও লেখাছিল.....
'দাদা, তুমি আমার প্রণাম নেবে'।
স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন 'We are what Our thoughts have made us'... একটু অন্যভাবে বললে আমরা তাই যা আমাদের কথাবার্তা বা চলচলনের ধরণ অন্যদের চোখে আমাদের প্রতিরূপ তৈরি করে...
চ্যাট হিস্ট্রিতে গিয়ে দেখলাম আমরা খুবই কম কথা বলেছি, যা আর যাইহোক একজনের আরেক জনের প্রতি স্বচ্ছ প্রতিমূর্তি তৈরির জন্য মোটেই পর্যাপ্ত নয়। তাসত্ত্বেও আমার মত এই কম বয়সী ছোকরা টাইপের ছেলেটাকে দাদা ডেকে আবার প্রণাম দেওয়া... সত্যিই অবাক হলাম একইসঙ্গে আশ্চর্য....
আমার যদি আশীর্বাদ করার ক্ষমতা থাকত, আমি ওকে অবশ্যই আশীর্বাদ করতাম ও যেন জীবনে অনেক বড় হয়.... অন্তত স্বার্থপরভাবে এইভেবে যে একজন অপরজনকে বিন্দুমাত্র না চিনেও মনের মধ্যে এতটা বিশ্বাস আনতে পেরেছে, দাদা বলে ডাকতে পেরেছে, প্রণাম জানিয়েছে।
আমার ভায়েরা, সবসময় কোনও অপরিচিত মেয়ের ইনবক্সে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকে বিরক্তি করে, আর পাত্তা করতে না পেরে কাঁচাকাঁচা বাংলা খিস্তিতে গোটা ইনবক্স ভাইরাসে ভরিয়ে ফেলার মধ্যে কোনও বীরত্ব দেখিনা। বরং এতে নিজের কাপুরুষত্ব প্রকাশ পায়, অমনুষ্যত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বরং কারও বিশ্বাস অর্জন করো.... দেখো... অনেক আশীর্বাদ পাবে... হয়তো তোমার সততা, মানবিকতা আর সহমর্মিতা দেখে কোনও মেয়ে ইম্প্রেশডও হয়ে যেতে পারে..
সত্যি... মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করা খুব প্রয়োজন। অন্তত ইউটোপিয়াকে নিগ্রহ ও 'ল্যান্ড অফ রেপ' এ পরিণত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে।
Sudip Sen
2nd June 16
0 Comments
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন