#আজি_হতে_শত_বর্ষ_পরে

'কলেজ স্কয়ার'আমার বড়াবর ই অত্যন্ত প্রিয়। কলকাতা বলতে আমার দুটো জাগার কথা মাথায় আসে কলেজ স্কয়ার আর প্রিন্সেপ ঘাট।কোন এক বিষন্ন বিকেল মানে প্রিন্সেপ ঘাট, আর কোন এক তপ্ত দুপুর মানে কলেজ স্কয়ার।এখন কলেজ স্কয়ারে গেলে তোমার কথা মনে পড়ে।লিকার চা আর কুলফিমালাই ঘন্টা বাজিয়ে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়।এই তো....এই সেই সিট'টা..তুমি বসেছিলে।না না আরেকটু ডানে চেপে।তোমার ডান পাশে ছিল একটা সীমানা। বাঁদিকে ছিলাম আমি।অবশ্য বাদিকে থাকার কথা ছিলনা।আমার বাঁদিকে ছিল এক হিন্দিভাষি বঙ্গসন্তান।তার হাতে ছিল টেটের বই।আর ঠিক এভাবেই আমাদের প্রেমে রাজনীতির প্রবেশ... প্রেম? না শব্দটার অপপ্রয়োগ ঘটলো বোধহয়। ছেলেরা কষ্টের টাকায় বই কিনবে,পুলিশের মার খেয়ে রাত জেগে ফর্ম তুলবে..আর চাকরি পাবে কে??
এভাবেই ভালোলাগার মাঝে কিছু অস্বাচ্ছন্দ্যকর কথায় আমাদের মাঝে চিড় ধরে।তারপর বাসে উঠি।না!টিকিট টা আর হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দাওনি।প্রিন্সেপ ঘাটে নামি।তারপর দ্রোণাচার্যর মত প্রেমপত্রকে  'কাগজের নৌকা' বানিয়ে ভাসিয়ে দিই হুগলি নদীতে।বলতেই ভুলে গেছি,জান! শিবানীকে ভুলে যাওয়ার পর দ্রোণের জীবনে পাঞ্চালী আসে।এক সময় দ্রোণ মারা যায়।তারপর পাঞ্চালীর জীবনে  নিরুপম আসে..নিরুপম হারিয়ে যায়।পাঞ্চালীরর জীবনে আর কোন ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই।সব যেন ফুরিয়ে গেছে।ওদের দুজনের মৃত্যুর সময় আঁকড়ে ধরে থাকা মাটি নিয়ে পাঞ্চালী এখনো ঘুরে বেড়াই। এটা কি 'চরৈবেতি' নাকি 'ফিরে দেখা'?...জানা নেই।

দুঃখ দিলাম,তাইনা?

"না!না!দুঃখে নিয়ে যাওয়ার এরকম না!
দুঃখেই তো থাকি সবসময়। আর দুঃখ'টাই তো লাইফ,তুমি ওটা পড়েছিলে একটা....
কার যেন লেখা ছিল?
ছিল....
"…happiness [is] but the occasional episode in a general drama of pain."
.................................Thomas Hardy,
                 The Mayor of Casterbridge...........