নিতাই চায় এবার বন্যা হোক।রোজ পুকুর পাড়ে
একটা পাটকাঠি দিয়ে জলের বৃদ্ধি পরিমাপ করতে
থাকে।এইতো,চার আঙুল জল বেড়েছে, এরপর
আর চার আঙুল বাড়লেই পুকুরের বাঁধ ভাঙবে,
তারপর কচুরিপানা ঢুকে যাবে ওর ঘরের
মেঝেতে,বিছানাতে মাছ নিয়ে খেলবে আর ছাদ
থেকে ছিপ ফেলে পুঁটি মাছ ধরবে।ওর খুব ইচ্ছে
ছাগলের পিঠে চড়ে পুকুর পার হওয়ার, এবার
হয়তো সেই ইচ্ছেটাও পুর্ণ হতে চলেছে।
বাবার মুখে শুনেছে দু'হাজার সালের বন্যার কথা।
তখন নাকি হ্যালিকপ্টার এসেছিল।যখন
হ্যালিকপ্টার থেকে প্যাকেট ভরতি চিঁড়ে আর গুড়
নীচে ফেলা হত তখন নাকি হ্যালিকপ্টার ঘাসের
আগার সব জল শুষে নিত।কিছুক্ষণ পর আবার
সেই জল বৃষ্টির ফোঁটার মত ঝরে পড়ত।
নিতাইয়ের মনে প্রশ্ন জাগে,বাবাকে জিজ্ঞেস
করে 'আচ্ছা বাবা! জলের মধ্যে যদি কোন মাছ
থাকত, সেগুলোও কি হ্যালিকপ্টারের ঝড়ে উড়ে
যেত?
বাবা মুচকি হাসে, তারপর আবার গল্প বলা শুরু
করে।সেই চিঁড়ের প্যাকেট নিয়ে কিভাবে মারামারি
শুরু হতো !বিত্তবান লোকেরা তাদের শক্তি
দিয়ে সব অন বা প্যাকেট নিজেরা নিত,আর বাকি
লোকেরা আধপেটা খুদের ভাত আর আলুসেদ্ধ
খেয়ে কাটাত।পরে যখন বন্যার তীব্রতা বাড়তে
থাকে, সব লোকে ঘরবাড়ি ছেড়ে স্টেশনে ওঠে।
তখন নাকি মানুষের মধ্যে একতা আসে, আর
মিটিং করে উপর থেকে ছুড়ে ফেলা চিঁড়ে সকলে
মিলে একসঙ্গে ভাগ করে খাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাবা আরও বলে,তখন নাকি স্টেশনে একটা
লঙ্গরখানা খোলা হয়..লঙ্গরখানা মানে যেখানে
সবাই একসঙ্গে খিচুড়ি রান্না করে খায়।
নিতায়ের মনে পিকনিকের মেজাজ আসে,অন্তত
সবাই মিলে পিকনিক করার জন্য এবারের বন্যাটা
আসা প্রয়োজন,বাকি সময় মানুষ তো দা,বটি
নিয়ে লড়াইতে মেতে থাকে।
নিতাই বাইরে তাকায়,পাটগাছ গুলো এখনও শেষ
নিশ্বাসে বাঁচার চেষ্টা করছে। দুটো লোক
একটা নৌকার দু'প্রান্তে বসে দাঁড় বায়ছে।
একটা সাপ তার দুপাশের জলের আলপনা কেটে
এগিয়ে যাচ্ছে। একটা মাছ লাফিয়ে উঠল, সাপটা
বোধ হয় মাছটা খাওয়ার চেষ্টা করেছিল। মাছটা
আগাম সতর্ক থাকায় এবারের মত বেঁচে যায়।
আকাশে এখনও ঘন মেঘ,চারিদিক অন্ধকার।
মাঝে মধ্যে সজোরে বিদ্যুৎ চমকে আকাশ তার
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে।
আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে, সেই বৈদ্যুতিক
পোলটার মাথায় একটা মাছরাঙা বসেছে।তার
পাখনায় রঙের বাহার।অনেকগুলো কালো পিঁপড়ে
সারি বেঁধে পোলের উপরে উঠে যাচ্ছে, ওদের
তো আর যাওয়ার জায়গা নেই,পা ফসকে পড়া
মানে জলে ভেসে যাওয়া।ভাসতে ভাসতে মৃত্যু।
আচ্ছা..বন্যাতে মানুষেরও কি এরকম মৃত্যু হয়!
কেউ জানতেও পারে না!কে কিভাবে কোত্থেকে
বন্যার্ত হয়ে ভেসে গেল।হয়তো জল কমলে
গুনতিতে মানুষ কম পাওয়া যায়।
নিতায়ের মনে ভয় হয়.. ও আবার ভেসে যাবে না
তো!..পুকুরের জলে,পুকুর থেকে নদীর
মোহনাতে, সেখান থেকে সমুদ্রে.. বেশ তো
ভেসে গেলে ভালো ই হয়। ভেসে ভেসে মরার
আগে জীবনের শেষ ইচ্ছেটা পুরণ হবে ;সমুদ্র
দেখার।ওখানে নাকি চারিদিক জল,এক প্রান্তে
তাকালে অন্য প্রান্তের দেখা মেলে না।
ভাবতে ভাবতে নিতাইয়ের ঘুমের ঝুল আসে..ওর
বাবা পাশে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন।রান্নাঘর
থেকে কুলো তে চাল ঝাড়ার শব্দ আসছে..চাল
ঝাড়ার শব্দ ঘুম পাড়ানি গানের মত, এক ছন্দে
চলতে থাকে।হঠাৎ শব্দটা থেমে গেল।মা বাবার
পিঠে হাত রেখেছে...
'কি গো শুনছো! চাল তো প্রায় শেষ!এমনিতেই
বন্যার পরিস্থিতি,এরপরে খাব কি?'
নিতায়ের মনে আকস্মিক ঝাঁকুনি উঠল। গভীর
রাত্রে একা পেচ্ছাপ করতে উঠলে, অত্যন্ত ভয়ে
এমন প্রায়ই হয়।
একটা পাটকাঠি দিয়ে জলের বৃদ্ধি পরিমাপ করতে
থাকে।এইতো,চার আঙুল জল বেড়েছে, এরপর
আর চার আঙুল বাড়লেই পুকুরের বাঁধ ভাঙবে,
তারপর কচুরিপানা ঢুকে যাবে ওর ঘরের
মেঝেতে,বিছানাতে মাছ নিয়ে খেলবে আর ছাদ
থেকে ছিপ ফেলে পুঁটি মাছ ধরবে।ওর খুব ইচ্ছে
ছাগলের পিঠে চড়ে পুকুর পার হওয়ার, এবার
হয়তো সেই ইচ্ছেটাও পুর্ণ হতে চলেছে।
বাবার মুখে শুনেছে দু'হাজার সালের বন্যার কথা।
তখন নাকি হ্যালিকপ্টার এসেছিল।যখন
হ্যালিকপ্টার থেকে প্যাকেট ভরতি চিঁড়ে আর গুড়
নীচে ফেলা হত তখন নাকি হ্যালিকপ্টার ঘাসের
আগার সব জল শুষে নিত।কিছুক্ষণ পর আবার
সেই জল বৃষ্টির ফোঁটার মত ঝরে পড়ত।
নিতাইয়ের মনে প্রশ্ন জাগে,বাবাকে জিজ্ঞেস
করে 'আচ্ছা বাবা! জলের মধ্যে যদি কোন মাছ
থাকত, সেগুলোও কি হ্যালিকপ্টারের ঝড়ে উড়ে
যেত?
বাবা মুচকি হাসে, তারপর আবার গল্প বলা শুরু
করে।সেই চিঁড়ের প্যাকেট নিয়ে কিভাবে মারামারি
শুরু হতো !বিত্তবান লোকেরা তাদের শক্তি
দিয়ে সব অন বা প্যাকেট নিজেরা নিত,আর বাকি
লোকেরা আধপেটা খুদের ভাত আর আলুসেদ্ধ
খেয়ে কাটাত।পরে যখন বন্যার তীব্রতা বাড়তে
থাকে, সব লোকে ঘরবাড়ি ছেড়ে স্টেশনে ওঠে।
তখন নাকি মানুষের মধ্যে একতা আসে, আর
মিটিং করে উপর থেকে ছুড়ে ফেলা চিঁড়ে সকলে
মিলে একসঙ্গে ভাগ করে খাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাবা আরও বলে,তখন নাকি স্টেশনে একটা
লঙ্গরখানা খোলা হয়..লঙ্গরখানা মানে যেখানে
সবাই একসঙ্গে খিচুড়ি রান্না করে খায়।
নিতায়ের মনে পিকনিকের মেজাজ আসে,অন্তত
সবাই মিলে পিকনিক করার জন্য এবারের বন্যাটা
আসা প্রয়োজন,বাকি সময় মানুষ তো দা,বটি
নিয়ে লড়াইতে মেতে থাকে।
নিতাই বাইরে তাকায়,পাটগাছ গুলো এখনও শেষ
নিশ্বাসে বাঁচার চেষ্টা করছে। দুটো লোক
একটা নৌকার দু'প্রান্তে বসে দাঁড় বায়ছে।
একটা সাপ তার দুপাশের জলের আলপনা কেটে
এগিয়ে যাচ্ছে। একটা মাছ লাফিয়ে উঠল, সাপটা
বোধ হয় মাছটা খাওয়ার চেষ্টা করেছিল। মাছটা
আগাম সতর্ক থাকায় এবারের মত বেঁচে যায়।
আকাশে এখনও ঘন মেঘ,চারিদিক অন্ধকার।
মাঝে মধ্যে সজোরে বিদ্যুৎ চমকে আকাশ তার
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে।
আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে, সেই বৈদ্যুতিক
পোলটার মাথায় একটা মাছরাঙা বসেছে।তার
পাখনায় রঙের বাহার।অনেকগুলো কালো পিঁপড়ে
সারি বেঁধে পোলের উপরে উঠে যাচ্ছে, ওদের
তো আর যাওয়ার জায়গা নেই,পা ফসকে পড়া
মানে জলে ভেসে যাওয়া।ভাসতে ভাসতে মৃত্যু।
আচ্ছা..বন্যাতে মানুষেরও কি এরকম মৃত্যু হয়!
কেউ জানতেও পারে না!কে কিভাবে কোত্থেকে
বন্যার্ত হয়ে ভেসে গেল।হয়তো জল কমলে
গুনতিতে মানুষ কম পাওয়া যায়।
নিতায়ের মনে ভয় হয়.. ও আবার ভেসে যাবে না
তো!..পুকুরের জলে,পুকুর থেকে নদীর
মোহনাতে, সেখান থেকে সমুদ্রে.. বেশ তো
ভেসে গেলে ভালো ই হয়। ভেসে ভেসে মরার
আগে জীবনের শেষ ইচ্ছেটা পুরণ হবে ;সমুদ্র
দেখার।ওখানে নাকি চারিদিক জল,এক প্রান্তে
তাকালে অন্য প্রান্তের দেখা মেলে না।
ভাবতে ভাবতে নিতাইয়ের ঘুমের ঝুল আসে..ওর
বাবা পাশে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন।রান্নাঘর
থেকে কুলো তে চাল ঝাড়ার শব্দ আসছে..চাল
ঝাড়ার শব্দ ঘুম পাড়ানি গানের মত, এক ছন্দে
চলতে থাকে।হঠাৎ শব্দটা থেমে গেল।মা বাবার
পিঠে হাত রেখেছে...
'কি গো শুনছো! চাল তো প্রায় শেষ!এমনিতেই
বন্যার পরিস্থিতি,এরপরে খাব কি?'
নিতায়ের মনে আকস্মিক ঝাঁকুনি উঠল। গভীর
রাত্রে একা পেচ্ছাপ করতে উঠলে, অত্যন্ত ভয়ে
এমন প্রায়ই হয়।
0 Comments
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন