পায়েস এর মধ্যে কালোজিরে দেখে আমি প্রথমে অবাক হয়েছিলাম... ভাবলাম এই দুর্ভিক্ষের সময়ে  এও কীভাবে সম্ভব!

নেহাত কোনও মহামারীর সময়ে ভগবানচন্দ্র বাঁহাত নিয়ে দুচ্ছাই করে ঝাড়া দিতেই আমাদের মত উদগান্ডুর এই মর্তলোকে আগমন... ভগবান পাখিপড়া করে শিখিয়ে দিয়েছিল "এপারে থাকবে তুমি, সে রইবে ওপারে, হাত বাড়ানোর চেষ্টা করলে, তার বাপ ক্যালাবে তোমারে।"

তারপর থেকে অনেক রাত কেটে গেছে... 'আর কত রাত জেগে থাকব/ গায়ে কত এল.পি.জি মাখব'...  মাঝেমধ্যেই রাতে স্বপ্ন দেখি ঘুমের ঘোরে কে যেন আমায় ডাকে... আমি তার  পিছুপিছু যাই... ঝোপেড় আড়ালে বসি, দুজনের ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে আসি... ঠিক চুমু খেতে যাব.. অমনি ঘুম ভেঙে যায়...

জ্যোতির্বিদ্যা মহাকাশচারীদের থেকে ভাল কেউ জানে বলে আমার মনে হয়না... পি.এস.এল.ভি...  আরিব্বাস! এস দিয়ে আমার নাম, এল.ভি মানে লাভ... তারমানে পি দিয়েই তার নাম হবে ... একদিন একজন মহাকাশচারীর কাছে তাবিজ নিলাম, গ্যারান্টি সহকারে বশীকরণ...  অন্যথা পয়সা ফেরত... তাবিজ দেওয়ার ক'দিন পরেই মহাকাশচারী মারা গেলেন.. কৌতূহলবশত হয়ে তাবিজ খুলে দেখি কয়েকটা সাদা রঙের চুল... কার বা কোথাকার জানার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করিনি...

আমাদের দলের সকলের গপ্প এই একইরকম, ক্যাবল তালবাবু ছাড়া। ও হ্যাঁ! যেদিন ও জন্মেছিল.. ওর বাবার মাথার উপর ভাতের হাঁড়ির মত বড় একটা তাল পড়েছিল। একই হাসপাতালে ওর বাপ-মা ভর্তি ছিল, হাসপাতালটাই তখন ওদের বাড়ি... তালবাবুর নামকরণ তখনও হয়নি... পরে দেখা গেল তালবাবুর গায়ের রঙ কিছুটা তালের পিছনদিকটার মত কালো, শুধু তাল নাম টা জবুথুবু শোনায়, তাই তালবাবু সরকার।

সেদিন রেলগেটে বিড়ি ধরিয়ে সবে গান ধরেছি... "ও টুনির মা তোমার টুনির কথা শোনেনা/ যার তার লগে সাইকেলে চড়ে আমায় চেনেনা"।। ওমনি দেখি ঝিলমিল কে সাইকেলে চড়িয়ে তালবাবু ধীরেধীরে এগিয়ে আসছে, মাঝেমধ্যেই ব্রেক ধরছে আর ঝিলমিল একটু একটু করে পিছিয়ে যাচ্ছে.... তালবাবুর প্রেম কী গায়েগায়ে শোধ?...

ঝিলমিলের গায়ের রঙ খাঁটি দুধের মত সাদা.. মিছরি দিয়ে পায়েস রান্না করলে যতটা সাদা হয়, তার থেকেও বেশি সাদা... ওর পাশে তালবাবুকে দেখে মনে হচ্ছে যেন সেই পায়েসে কয়েকশো কালোজিরে ছিটানো হয়েছে...

একটা রহস্যজনক ব্যাপার...  কীভাবে সম্ভব! কীভাবে তালবাবু ঝিলমিলকে পটালো?

জানতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে সুমন ঘোষ পরিবেশিত এক অশ্রুসজল, সামাজিক যাত্রাপালা 'ফুক্কি ফক্কো গপ্পো'।।।