- থ্যাঙ্কু.....
- ক্যানো?
- এই যে আপনি বাসে আমার জন্য বসার জায়গা করে দিলেন...
- সেতো ঠিকাছে, কিন্তু একটা কারণে আমি ভীষণ আপসেট। আমি শোকাহত, আমি মর্মাহত...। আমার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে চোদ্দচাকা লড়ির চাকার নীচে চাপা পড়ে আত্মহত্যা করি।
- ক্যানো?
- ওই যে, পাশ থেকে লোকটা উঠে গেলে আপনার মা বললেন দাদাকে বসার জায়গা করে দাও। অচেনা কেউ দাদা বললে আমার অত্যন্ত কষ্ট হয়, আমার মনে হয় গলা শুখিয়ে গিয়েছে, অবিলম্বে জল পান করা উচিত....
- আপনি কী জল খাবেন?
- আপনি নিশ্চয় আর্টস এর স্টুডেন্ট। তৃষ্ণার্ত বলতে কখনওই জলের তৃষ্ণা নয়, সম্ভাবনাময় প্রেমের তৃষ্ণা। আপনি নিশ্চয় ইতিহাস নিয়ে পড়েছেন। এমন খিলখিল করে আসছেন ক্যানো?
- এমনি.... তখন মা সঙ্গে ছিল তাই দাদা বলছিলাম।
- এবার আমি নিশ্চিত আপনি ইতিহাস নিয়ে পড়েছেন। আর আপনার পেশোয়ার চ্যাপ্টারটা একদম মাথায় ঢোকেনা। আপনি শাহজি, শম্ভুজি, বালাজি বাজিরাও, বালাজি বিশ্বনাথ সব এক করে ফেলেন। আবার হাসছেন!
- আপনার কথা শুনে আমি নিশ্চিত, আগের জন্মে আপনিএকজন বিখ্যাত সাহিত্যিক ছিলেন, কিন্তু বিশেষ কারণে আপনার নোবেল প্রাইজ চুরি হয়ে যায়।
- কিছুটা ঠিক ধরেছেন। কিন্তু আগের জন্মে আমি সাহিত্যিক ছিলাম না। ছিলাম একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। ই ইক্যুয়াল টু এমসি স্কয়ারের আবিষ্কর্তা। নোবেল প্রাইজও পেয়েছিলাম।
- বুঝতে পারলাম।
- হুমম। আমি প্রথমেই ঠিক ধরেছিলাম আপনি অত্যন্ত ধূর্ত এবং বুদ্ধিমতী। আপনি কী রোজ সকালে এক বাটি করে লবণ খান?
- ক্যানো বলুন তো?
- প্রাতরাশে লবণ না খেলে এত ক্ষুরধার বুদ্ধি সচরাচর কারও হয়না। আপনি কী জানেন না লবণে আয়োডিন আছে?
- না, সত্যিই আমি জানতাম না।
- হুমম। আপনার উচিত ছিল একটু বেশী বায়োলজি পড়ার, পুষ্টির চ্যাপ্টারে আপনার বেশ কিছুটা দুর্বলতা আছে। আমার কাছে ক্লাস টেনের বইটা আছে, যদিও ভিটামিনের কিছু অংশ ইঁদুরে খাওয়া, আপনাকে দিতে পারি যদি আপনি বইটা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
- আচ্ছা। তবে এই মুহূর্তে আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত, আপনি কী কিছু খাবেন?
- এই সময়ে আমি চানাচুর খাই। চানাচুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, ক্যালসিয়াম শরীরের হাড় মজবুত করতে কাজে লাগে।
- আমি ভাবছিলাম একটু চা খাব, আচ্ছা! চায়ের পৌষ্টিক গুণাগুণ সম্পর্কে কিছু বলুন...
- ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সাম্প্রতিক একটি রিসার্চে ধরা পড়েছে চায়ে প্রচুর পরিমাণে নেফ্রোদিতে ফিসফিস থাকে।
- নামটা খুব চেনাচেনা লাগছে। কোথায় যেন পড়েছি।
- পড়বেন অবশ্যই। নেফ্রোদিতে ফিসফিস ক্যান্সার প্রতিষেধক মহৌষধ। খুব শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু হবে।
- এটা আমার বাড়ির ঠিকানা, একদিন চা খেতে আসবেন। বাকি অজানা তথ্য সেদিন জেনে নেব...
- চা খাওয়ার সময় আমার সামনে কেউ বসে না থাকলে আমার গলা দিয়ে চা নামে না। আর একএকজনের চা খাওয়ানোর ধরণ একেকরকম। কেউ শুধু চা খাওয়ান, কেউ চায়ের সাথে দুটো বিস্কিট, কেউ পাপড় ভাজা, কেউ চায়ের নাম করে এক প্লেট বিভিন্ন রকমের রসগোল্লা, কেউ আবার লাঞ্চ, ডিনার এভরিথিংস। আপনি কোনটা করবেন?
- সে কিছু একটা হবে। এসেই দেখুন একদিন। বাই দা ওয়ে, আপনার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগল।
- ক্যানো? এখনই চলে যাবেন?
- হুমম! এইতো, সামনেই আমার মেডিকেল কলেজ, আমি একজন জুনিয়র  ডক্টর।
- যাওয়ার আগে অনুগ্রহ করে বলে দিন ট্রাকের নীচে ঝাপ দেব নাকি সামনের রেল লাইনে?
- কোনওটাই নয়। একদিন বাড়ি আসুন.... অনেক কথা হবে।

: (মেয়েটা আবার খিলখিল করে হাসছে, বোধহয় আমায় ভালোবেসে ফেলেছে। জয় মা ভ্যালেন্টাইন।)

- হ্যালো মা!
- বল, খুব খুশী মনে হচ্ছে।
- হ্যাঁ মা, খুব খুশী। একজন অদ্ভুত মানুষের সঙ্গে আজ পরিচয় হল। খুব মজার মানুষ, আর ততটাই ইনোসেন্ট।
- যাক্ বাবা! এতদিন পরে জামাই এর সন্ধান পাওয়া গেল। আমি নিশ্চিত হলাম।
- না মা, তা নয়। এসব মানুষের সঙ্গে দু-চার মিনিট ভাল সময় কাটানো যায়। সংসার করার মত এরা নয়। আর কোনওদিন হতেও পারবেনা।

Sudip Sen
First Feb Sixteen...