- বছরের তিনশো পঁয়ষট্টি দিন-ই গার্লফ্রেন্ড এর বার্থডে থাকলে মন্দ হয় না।
- সে কী দাদা! এতো এক শতাব্দীতেও পুর্ণ হবে না। মিশন ইম্পসিবল! বছরের প্রত্যেকটা আলাদা দিনে অর্থাৎ তিনশো পঁয়ষট্টি টা মেয়ে খুঁজে বার করা, তারপর তাদের মানানো, প্রপোজ করা। তারপর লিপইয়ার থাকলে সেই মেয়ে কে খুঁজে বার করা! নট আ কাপ অফ টি দাদা!
- আপনি উল্টো বুঝছেন।
- না, আমি ঠিক-ই বুঝছি। আমার চারটে গার্লফ্রেন্ড। তিন মাস অন্তর গিফ্ট দিতে পুরো লেজেগোবরে অবস্থা। বুঝতেই পারছেন, বেকার ছেলে।
- চার'টে' তাই প্রবলেম হচ্ছে বুঝলেন, এক'জন' হলে সমস্যায় পড়তেন না।
- কী যে বলেন দাদা! সপ্তমী থেকে দশমী। চারটে ভিন্ন পোষাকের সাথে আলাদা আলাদা মেয়ে নিয়ে না ঘুরতে পারলে জীবনটা যে 'ষোল আনাই বৃথা '!
- আপনি তো মশাই বাবা কামদেবের মত কথা বলছেন। ভালোবাসার সাথে মেয়ে নিয়ে ঘোরার সম্পর্ক মাথায় ঢোকেনা। আর বার্থডে গিফ্ট! বলবেন না! গিফ্ট দেওয়ার কথা তো দুরের ! দেবো ভেবেছিলাম, তাই পাক্কা এক সপ্তাহ কথা বন্ধ ছিল।
- আপনি কী মঙ্গল গ্রহের লোক! দাঁড়ান একবার চিমটি কেটে দেখি, ঠিক! কেমন যেন বিশ্বাস হচ্ছে না।
- না দাদা! সত্যি বলছি। আমার তো আর চার'টে' নেই, যত মাধ্যাকর্ষণ এক 'জনের' উপর। আর এই বার্থডে টা একটা বড় ইস্যু বুঝলেন! তিনশো চৌষট্টি দিনই কথা বলার শেষ মিনিটে  আমাদের মাথায় ভূত চাপে, ভূতগুলো প্রেম কেড়ে নেয়। এই বার্থডে এমন একটা দিন যে কোনও বিপদ ঘটেনা। বিপদ যে ঘটেনা,তা বলা ভুল! জানেন গ্রীটিংস কার্ড পাঠিয়েছিলাম, নামের বানান ভুল লিখেছি।
- আপনার দাদা ফাঁসি হওয়া উচিৎ!
- ফেঁসেই আছি বুঝলেন! কখন কী করা উচিৎ ঠাওর করতে পারিনা।
- তা যাইহোক, জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম..
- না দাদা, একদম না। আমি বড্ড পসেসিভ। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়! এই নিয়ে কোনও ক্যোয়েশ্চেন মার্ক পাঠালে, পুরো 'ঘেটে ঘ'। মনটা সবসময় বলে.......

"সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি,
বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনাঃ
নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে;"।